গ্রন্থকারের নিবেদন - অনন্ত শ্রীবিভূষিত আচার্যপাদ শ্রীশ্রী স্বামী বাসুদেব দাসজী ত্যাগী মহারাজ প্রসঙ্গ (পর্ব - 2)
অনন্ত শ্রীবিভূষিত আচার্যপাদ শ্রীশ্রী স্বামী বাসুদেব
দাসজী ত্যাগী মহারাজ প্রসঙ্গ (পর্ব - 2)
জানকী
বল্লভো বিজয়তে || শ্রী সীতারামাভ্যাং নমঃ || শ্রী হনুমতে নমঃ
লেখনীতে: কিশোর দাস (শ্রী মহারাজ জির কৃপাপ্রাপ্ত শ্রী
রাম কিশোর ভট্টাচার্য)
নমস্কার ও জয় সিয়ারাম,
রামানন্দী সম্প্রদায়ের ভাস্কর, পরম পূজনীয় মহান সাধক এবং আমাদের পরম গুরুদেব অনন্ত শ্রী আচার্যপাদ শ্রী স্বামী বাসুদেব দাসজী
ত্যাগী মহারাজ-এর চরণে
কোটি কোটি দণ্ডবৎ প্রণাম।
যাঁদের পুণ্যময় জীবন, অলৌকিক কর্মসাধন এবং অমৃতময় উপদেশ আমাদের
আধ্যাত্মিক পথের আলোকবর্তিকা, সেই মহাপুরুষের দিব্য জীবনগাথা কোনো একটি লেখায় বা একবারে প্রকাশ করা
অসম্ভব। শ্রী মহারাজ জির অহৈতুকী কৃপা এবং আদেশে, তাঁর সেই আলোকোজ্জ্বল জীবন, সাধনকাল এবং কল্যাণময়ী শিক্ষাকে আমরা এই মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে (বিভিন্ন পর্বে) আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চলেছি।
"মহাপুরুষদের
জীবন কথা কেবল পড়ার জন্য নয়, তা নিজের জীবনে ধারণ করে পরমার্থ লাভের পথ প্রশস্ত করার জন্য।"
শ্রী মহারাজ জির পরম কৃপাধন্য শিষ্য শ্রী কিশোর দাস (শ্রী রাম কিশোর ভট্টাচার্য) মহাশয়ের লেখনীর মাধ্যমে গুরুদেবের জীবনের
অন্তহীন অমৃত-কথা পর্বানুসারে নিয়মিত পোস্ট করা হবে। আশা করি, শ্রী মহারাজ জির এই জীবন-প্রসঙ্গ আপনাদের সকলের
হৃদয়কে ভক্তি ও শান্তিতে ভরিয়ে তুলবে এবং আধ্যাত্মিক মার্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য
করবে।
গুরুদেবের চরণে প্রার্থনা জানিয়ে আসুন আমরা
সবাই মিলে এই পুণ্যময় কথামৃতের আস্বাদ গ্রহণ করি।
জয় শ্রীরাম। জয় গুরুদেব।
----------------------------
গ্রন্থকারের নিবেদন
ত্যাগ-বৈরাগ্য-তপোমূর্ত্ত
শ্রীশ্রীঅনন্তশ্রী বিভূষিত আচার্য্যপাদ শ্রীস্বামী বাসুদেবদাসজী মহারাজ ত্যাগীজীর
আজ্ঞায় ও প্রেরণায় এ গ্রন্থ বঙ্গ ভাষায় রচিত হইয়াছে। জীবনী বলিতে আমরা সাধারণতঃ
যাহা বুঝি এবং সাধারণতঃ জীবনী যে ভাবে লিখিত হইয়া থাকে তাহাতে এই গ্রন্থকে সেই
ভাবে জীবনী বলা যায় কি না সন্দেহ। সুতরাং ইহাকে শ্রীশ্রী অনন্তশ্রী আচার্য্যপাদ
শ্রীস্বামী বাসুদেবদাসজী ত্যাগী মহারাজ প্রসঙ্গ” বলাই যুক্তিযুক্ত বোধ করিয়া ঐ নাম
দেওয়া হইয়াছে।
ইংরাজী
১৯৮১, সংবত ২০৩৮ চৈত্র
মাসের শেষে সন্ত ও ভক্তসমাজ কর্তৃক আচার্য্যপাদের অভিনন্দন সমারোহ উপলক্ষ্যে
গুরুভ্রাতা শ্রীমহান্ত ১০৮ স্বামী ভাগবতদাস রামায়ণী মহারাজ এক অভিনন্দন গ্রন্থ
রচনা করিয়া তাঁহার কর-কমলে অর্পণ করিয়াছিলেন। তিনি বেশ কিছু বৎসর ধরিয়া সংগৃহীত ও
লিখিত আচার্য্যপাদের জীবনের বিবিধ প্রসঙ্গ, সদুপদেশাদি, সমাজের প্রায় সর্ব্ব-স্তরের অনুরাগী,
শিষ্য, সন্ত, ভক্ত ও জনসাধারণের লিখিত অভিব্যক্তির
মুদ্রণ করেন। ইহার নাম “অভিনন্দন গ্রন্থ এবং দিব্য জীবন দর্শন”। এই গ্রন্থখানি
শ্রীশ্রীঅনন্তশ্রী আচার্য্যপাদ শ্রীস্বামী বাসুদেবদাসজী ত্যাগী মহারাজ প্রসঙ্গের
মূল উপকরণ। পরন্তু সময়াভাববশত শ্রীস্বামী ভগবতদাসজী রামায়ণীজী মহারাজ
আচার্য্যপাদের কলিকাতায় অবস্থানের বিভিন্ন সময়ে উপদেশাবলী, অযোধ্যা, চিত্রকূটাদি মহাতীর্থ, কুম্ভপর্ব্ব ইত্যাদির বৈশিষ্ট্য ও
মাহাত্ম্য তাঁহার রচিত গ্রন্থে সন্নিবেশিত করিতে না পারায় তিনি এই গ্রন্থকারকে
ঐগুলি এই গ্রন্থে সন্নি-বেশিত করিতে আজ্ঞা প্রদান করেন এবং তাঁহার আজ্ঞানুসারে উহা
এই গ্রন্থে যথা স্থানে সন্নিবেশিত হইয়াছে। ইহা ভিন্ন গ্রন্থকারের ও অন্যান্য
ভক্তগণের বিশেষভাব শ্রীরামেন্দু ভট্টাচার্য্য ও শ্রীসুরেন্দ্র মাধব মল্লিক মহাশয়ের
প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শন, ব্রহ্ম সগুণ নির্গুণ, ব্রহ্ম ও জীবে ভেদ, চিৎ-অচিৎ বিশিষ্ট বিশাল জগত ব্রহ্মের শরীর, শ্রীরামতত্ত্ব, শ্রীজানকীতত্ত্ব, নির্গুণ-সগুণ ব্রহ্ম রহস্য, মায়াতত্ত্ব, জীবতত্ত্ব, যুগভেদে সাধনের ভেদ, জ্ঞান-ভক্তি ও ভক্তির শৃঙ্গার, নাম-নামীর রহস্য, রাম নাম প্রতাপ, রামভজন, শ্রীরামচন্দ্রের ভক্তের প্রতি প্রীতি,
শ্রীরামনাম
সংকীর্ত্তন প্রভৃতি বিষয়ে যাহা বলিয়াছিলেন উহা শ্রুতি, পুরাণ, রামচরিত মানস, বাল্মীকীয় রামায়ণ, অধ্যাত্ম রামায়ণ, বিনয় পত্রিকা, বৈরাগ্য সন্দীপনী, দোহাবলী প্রভৃতি হইতে নানা শাস্ত্র
প্রমাণ সহিত ইহাতে সন্নিবেশিত হইয়াছে। কলিকাতায় অবস্থান কালে আচার্য্যপাদের সহিত
সন্তের মিলন এক বিশেষ ঘটনা যাহা ভক্তগণ প্রত্যক্ষ করিয়াছেন তাহা লিপিবদ্ধ হইয়াছে।
আচার্য্যপাদের ত্যাগ, বৈরাগ্য,
তপস্যা, তপস্যার্জনিত তেজঃপুঞ্জ প্রভাব, রামভজন, সাধুসেবা, বিনম্রতা মাধুর্য্য প্রভৃতি চরিত্র
বৈশিষ্ট্যগুলির আমাদের আচার্য্যপরম্পরার অন্তর্গত প্রাচীন আচার্য্যগণের সহিত এবং
শ্রীশ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সহিত সাদৃশ্য প্রদর্শিত হইয়াছে। আচার্য্যপাদের মধ্যে
“ভক্তভক্তি ভগবন্ত গুরু চতুর্নাম বপু এক” এই চারি স্বরূপ পূর্ণরূপে বিদ্যমান
লক্ষিত হইত ইহাও দেখান হইয়াছে। “এসী প্রভুকা রীতি” পরিচ্ছেদে আচার্য্যপাদের শরণাগত
ভক্তগণের প্রতি প্রীতি ও মাধুর্য্য ভাব বর্ণিত হইয়াছে। শ্রীমদাচার্য্যপাদের
অভিনন্দন সমারোহে বঙ্গদেশবাসী ভক্তগণ তাঁহাকে যে স্তুতি করিয়াছিলেন উহাও
সন্নিবেশিত করা হইয়াছে। অবধেশকুমার মন্দিরে সংকীর্ত্তনের অদ্ভুত প্রভাব, আচার্য্যচরণের অন্তলীলা, তিরোধান উৎসব ও ভক্তগণের হৃদয় সঙ্গীত
দিয়া গ্রন্থের পূর্ব্বার্দ্ধ সমাপ্ত হইয়াছে। আচার্য্যপাদের বিরক্ত শিষ্যগণের
সংক্ষিপ্ত পরিচয় পরিশিষ্ট “ক”এ দেওয়া হইয়াছে। সাধু-সন্ত, অনুরাগী ও সমাজের সকল শ্রেণীর জনগণের
শতাধিক অভিব্যক্তির সংকলন উত্তরার্দ্ধে দেওয়া হইয়াছে।
শ্রীমদাচার্য্যচরণের
এমন অনেক শিষ্য আছেন যাঁহারা একবারের বেশী তাঁহাকে দেখিবার সুযোগ পান নাই এবং এই
কারণে তাঁহার জীবনটিকে ধারণার মধ্যে আনিবার যথাসাধ্য চেষ্টা করিবার বিশেষ সুবিধা
প্রাপ্ত হন নাই। তাঁহার শিষ্য ব্যতীত আরও অনেক ভক্ত ও ধর্ম্মপিপাসু ব্যক্তি
যাঁহারা তাঁহার নাম ও অনন্য সাধারণ মাহাত্ম্যের কথা অনেক শুনিয়াছেন কিন্তু সঙ্গ
করিবার সুযোগ পান নাই, এই
প্রসঙ্গ তাঁহাদের সেই সুযোগ দিবে বলিয়া আশা করি। আর যাঁহারা তাঁহার পুত সঙ্গ লাভ
করিতে পারিয়াছেন সেই মহা সৌভাগ্যবান ভক্তগণ এই “প্রসঙ্গের” মধ্যে আচার্য্যচরণের
বিবিধ লীলাবিলাস দেখিয়া আনন্দ সম্ভোগ করিবেন সন্দেহ নাই।
সোমবার,
২২শে ফাল্গুন,
১৩৯৫, কলিকাতা

Comments
Post a Comment