অনন্ত শ্রীবিভূষিত আচার্যপাদ শ্রীশ্রী স্বামী বাসুদেব দাসজী ত্যাগী মহারাজ প্রসঙ্গ (পর্ব - 5)

 


জানকী বল্লভো বিজয়তে || শ্রী সীতারামাভ্যাং নমঃ || শ্রী হনুমতে নমঃ

লেখনীতে: কিশোর দাস (শ্রী মহারাজ জির কৃপাপ্রাপ্ত শ্রী রাম কিশোর ভট্টাচার্য)

নমস্কার ও জয় সিয়ারাম,

রামানন্দী সম্প্রদায়ের ভাস্কর, পরম পূজনীয় মহান সাধক এবং আমাদের পরম গুরুদেব অনন্ত শ্রী আচার্যপাদ শ্রী স্বামী বাসুদেব দাসজী ত্যাগী মহারাজ-এর চরণে কোটি কোটি দণ্ডবৎ প্রণাম।

যাঁদের পুণ্যময় জীবন, অলৌকিক কর্মসাধন এবং অমৃতময় উপদেশ আমাদের আধ্যাত্মিক পথের আলোকবর্তিকা, সেই মহাপুরুষের দিব্য জীবনগাথা কোনো একটি লেখায় বা একবারে প্রকাশ করা অসম্ভব। শ্রী মহারাজ জির অহৈতুকী কৃপা এবং আদেশে, তাঁর সেই আলোকোজ্জ্বল জীবন, সাধনকাল এবং কল্যাণময়ী শিক্ষাকে আমরা এই মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে (বিভিন্ন পর্বে) আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চলেছি।

"মহাপুরুষদের জীবন কথা কেবল পড়ার জন্য নয়, তা নিজের জীবনে ধারণ করে পরমার্থ লাভের পথ প্রশস্ত করার জন্য।"

শ্রী মহারাজ জির পরম কৃপাধন্য শিষ্য শ্রী কিশোর দাস (শ্রী রাম কিশোর ভট্টাচার্য) মহাশয়ের লেখনীর মাধ্যমে গুরুদেবের জীবনের অন্তহীন অমৃত-কথা পর্বানুসারে নিয়মিত পোস্ট করা হবে। আশা করি, শ্রী মহারাজ জির এই জীবন-প্রসঙ্গ আপনাদের সকলের হৃদয়কে ভক্তি ও শান্তিতে ভরিয়ে তুলবে এবং আধ্যাত্মিক মার্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

গুরুদেবের চরণে প্রার্থনা জানিয়ে আসুন আমরা সবাই মিলে এই পুণ্যময় কথামৃতের আস্বাদ গ্রহণ করি।

জয় শ্রীরাম। জয় গুরুদেব।

----------------------------

পৃষ্ঠা ৪৯


তৃতীয় অধ্যায়

তীর্থ পর্যটন ও পরিব্রাজন

শ্রীমহারাজজী পরিব্রাজক ভাবে বহু দেশ ও তীর্থ পর্যটন করিয়াছিলেন। তাঁহার পরবর্তীকালের সময় সময়ে প্রসঙ্গবশে বার্তালাপ হইতে অনুমান হয় যে ভারতখণ্ডের প্রায় সকল দুর্গম তীর্থ তিনি নিষ্কঞ্চন ও অনিকেত ব্রত অবলম্বন পূর্বক পরিক্রমণ করিয়াছিলেন। হিমালয়ের দুর্গম তীর্থ ও অন্যান্য স্থানের সহিত তাঁহার পরিচয় ছিল। কোন পথে কি সুবিধা ও কি অসুবিধা, কোন পথ কতটুকু বিপদসঙ্কুল ও দুর্গম, কোথায় কোথায় বিশ্রামস্থল, কোথায় কিরূপ আহার্য সংগ্রহ করিতে হয়, কোন স্থানের জনসাধারণের আচার-আচরণ কিরূপ, কোন স্থানের কি ভাষা ইত্যাদি প্রসঙ্গক্রমে উত্তর-কালে বলিতেন।

প্রকৃতপক্ষে পর্যটনে অনেক প্রকার ভ্রম, সংশয় ও বিপর্যয় নাশ হইয়া থাকে। বিবিধ স্থানের, বিবিধ সমাজের বিবিধ জাতির, বিবিধ আচার-আচরণ-প্রকৃতিবিশিষ্ট মানবের সংস্পর্শে আসিবার নিমিত্ত তাহাদের আহার-বিহার, ব্যবহার, মতামত, সমাজ ব্যবস্থা প্রভৃতি সম্বন্ধে নানা বৈচিত্র্য দর্শন করিয়া অনেক প্রকার সংকীর্ণতা ও ভ্রান্ত ধারণার নিরসন হইয়া থাকে। পর্যটনের সময়ে একদিকে যেমন অনেক প্রকার দৈহিক ও মানসিক ক্লেশ ভোগ করিতে হয়, অন্যদিকে অনেক প্রলোভনও সম্মুখে উপস্থিত হয়। এই ক্লেশ স্বীকার যত অভ্যস্ত হয় এবং প্রলোভনকে যত জয় করা যায়, চিত্ত ততই দৃঢ়রূপে সংলগ্ন হয়, আত্মবিশ্বাস ততই বর্ধিত হয়, ভবিষ্যতে পতনের সম্ভাবনাও তত অল্প হয়। পর্যটনকালে অনেক নীচ ব্যক্তির নিকট হইতেও নানা রূপ অনাদর, অপমান আসিয়া আধ্যাত্ম জীবনের প্রধান শত্রু অভিমানকে চূর্ণবিচূর্ণ করিতে থাকে। অনেক সময় ভীষণ বিপদ হইতে নিতান্ত অভাবনীয় উপায়ে মুক্তিলাভ করিয়া অনন্য আশ্রয় সাধক শ্রীগুরুদেব তথা শ্রীভগবানের নিত্যসান্নিধ্যে ও অবিরাম- প্রবাহিনী করুণাধারায় সুদৃঢ় বিশ্বাসী হইয়া থাকেন। একাকী বিপদসঙ্কুল পথ চলিতে চলিতে চিত্ত নিরাশ্রয়ের আশ্রয়, জীবের একান্ত আত্মীয়, হিতকারী, অহেতুকী করুণাময় শ্রীগুরুদেব তথা শ্রীভগবানকেই দৃঢ়রূপে আশ্রয় করিতে অভ্যস্ত হয়। নিষ্কঞ্চন ও অনিকেত অবস্থায় নিতান্ত

৪৯

8

পৃষ্ঠা ৫০

অপরিচিত স্থানে ভ্রমণ করিবার সময় যখন দেখা যায় যে দেহযাত্রা নির্বাহ হইতেছে, কখন কিভাবে কোথা হইতে কি জুটিয়া যায়, তাহাও অনেক সময় উপলব্ধি করা যায় না—তখন করুণাসিন্ধু শ্রীগুরুদেব তথা শ্রীভগবান যে যোগক্ষেম বহন করিতেছেন, তৎসম্বন্ধে সকল সংশয় বিদূরিত হয়। নানা দৃশ্য দর্শনের পিপাসাও মানবের একটি স্বাভাবিক বৃত্তি। পর্যটনে স্থান সমূহ দর্শনে সেই উৎসুক্যও নিবারিত হয়।

সাধারণত পদব্রজেই পর্যটনের নিয়ম তবে নিতান্ত প্রয়োজনে যানবাহন ব্যবহার করাও চলে। পরন্তু পদব্রজে ভ্রমণই শ্রেষ্ঠ। এইরূপে পর্যটন দ্বারা নানা প্রকার ভ্রম বিনষ্ট হইয়া, ত্যাগ-তিতিক্ষা, নিরভিমান, সাধন-ভজন-নিয়ম-নিষ্ঠা দৃঢ়ভাবে সাধককে আশ্রয় করে। পর্যটনকালে অনেক বৈরাগ্যবান, নিয়ত ভজনশীল, একনিষ্ঠ, আত্মসমাহিত সাধক ও সিদ্ধ মহাত্মার সৎসঙ্গ লাভ হওয়ায় মুমুক্ষুতা ও সাধনে একান্তিকতা অধিকতররূপে বর্ধিত হয়।

শ্রীমহারাজজী ভারতের সুপ্রসিদ্ধ তীর্থ ও তপভূমি দর্শন করিয়াছিলেন। তিনি সাধারণত পদব্রজে গমন করিতেন এবং পরিব্রাজনকালে অনিকেত অবস্থায় সাধনাভ্যাসই তাঁহার বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি যে সর্বদাই চলিতেই থাকিতেন তাহা নহে; তপস্যার অনুকূল স্থান পাইলেই কোথাও একমাস, কোথাও দুই মাস, কোথাও চারি বা ছয় মাস, কোথাও বা বাৎসরিককাল অবস্থান করিয়া তপস্যার গভীরে নিমগ্ন থাকিতেন; পুনরায় চলিতে আরম্ভ করিতেন। অবস্থানের জন্য কোথাও সুবিধামত পর্বত গুফা অথবা আরণ্যক পরিবেশে নির্জন গঙ্গাতীর বা কোন তপোভূমিতে আসন পরিগ্রহ করিতেন। নচেৎ অধিকাংশ সময় বৃক্ষতলে বা মুক্ত আকাশতলেই অবস্থান করিতেন। তাঁহার সম্বল মধ্যে স্বীয় আরাধ্যদেব বিজয় রাঘব শালগ্রামদেব, একটি কম্বল, একখানি চিমটা, এবং পরিধানে একখানি কৌপীন ছিল। केशজাল অবজ্ঞাত হইয়া প্রাকৃতিক নিয়মবশে ইতিপূর্বেই বিশাল জটা-জালে পরিণত হইয়াছিল। অবস্থানকালে বা ভ্রমণকালে কোন অবস্থাতেই তাঁহার গাম্ভীর্য্য ও অন্তর্মুখীনতার ব্যতিক্রম হইত না। তাঁহার দৃষ্টি সর্বদাই প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের চরণে সংলগ্ন। কথাবার্তা স্বয়ং ত প্রায় কখনও বলিতেন না, তপস্যা, করুণা ও গাম্ভীর্যের বিগ্রহ স্বরূপ তাঁহার মূর্তি দেখিয়া আগন্তুকরাও অবাক বিস্ময়ে অভিভূত হইয়া তাঁহার চরণে লুটাইয়া পড়িত। কোন বৈষয়িক কথা-বার্তার অবতারণা করিতে সাহসী হইত না। আগন্তুকগণই তাঁহার তপস্যা-জনিত তেজপুঞ্জ কলেবর দর্শন করিয়া এরূপ অভিভূত হইত যে তাঁহারা প্রেমে বিবশ হইয়া তাঁহার সেবায় সংলগ্ন হইতেন।

পর্যটনের সময়ে তিনি অনেক অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন

৫০

পৃষ্ঠা ৫১

এবং উত্তরকালে প্রসঙ্গবশে কোন কোন ভক্তের নিকট বলিয়াছিলেন। কোন এক সময়ে উত্তরাখণ্ড ভ্রমণকালে এক দুর্গম সুউচ্চ পর্বতোপরি তিনি এক প্রাচীন ঋষির সাক্ষাৎ লাভ করিয়াছিলেন। সেই প্রাচীন পুরুষ স্বীয় যোগবিভূতি বলে শ্রীমহারাজজীকে যথোচিৎ সংস্কার করিয়া আশীর্বাদ প্রদান করিয়াছিলেন। মানস সরোবর ও কৈলাসের পথে হিমালয়ে পর্বতের কোন অতি উচ্চ বিশাল স্থানে কোন বৃক্ষলতার চিহ্ন মাত্র ছিল না এবং দেহযাত্রা নির্বাহের কোন খাদ্যবস্তু না পাইয়া স্বীয় ইষ্টদেবের চরণধ্যানে নিমগ্ন হইয়া চলিতে লাগিলেন। অকস্মাৎ এক স্থানে আসিবামাত্র দুই তিনবার এইরূপ নভোবাণী শ্রবণ করিলেন—পদতলের শিলাতলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃক্ষচারা রহিয়াছে, উহা ভক্ষণ করিলে ক্ষুণ্নিবৃত্তি ও জল পিপাসা দূরীভূত হইবে।" শ্রীমহারাজজী নভোবাণী শ্রবণ করিয়া শিলাতলে সতসত্যই গোলাকার একটি পত্রযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃক্ষচারা দেখিয়া ভক্ষণ করিলেন এবং ইহাতে তিনি শরীরে বল পাইয়া পুনরায় চলিতে লাগিলেন এবং যথা সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌছাইলেন। এক ভক্তের নিকট তিনি হিমালয়ের তুষার মণ্ডিত গুফায় কয়েক বৎসর কঠোর তপস্যার কথা ব্যক্ত করিয়াছিলেন। ইহা শ্রবণ করিয়া ভক্তটি জিজ্ঞাসা করিলেন—"বাবা, আপনার সম্বলের মধ্যে কৌপীন, কমণ্ডলু, একখানি চিমটা ও কম্বল মাত্র; আপনি কি প্রকারে প্রচণ্ড শীত হইতে আত্মরক্ষা করিতেন? তুষার রাজ্যে কোন খাদ্যদ্রব্য নাই, কি খাইয়া শরীর ধারণ করিতেন?" শ্রীমহারাজজী বলিলেন—"যোগীগণ নানা প্রকার আসন, মুদ্রা, যোগক্রিয়া জানেন; ধুনীর অগ্নি, যোগাসন ও মুদ্রা দ্বারা শীত হইতে শরীর রক্ষা করেন এবং বরফান প্রদেশে ( তুষার রাজ্যে ) পূর্ব হইতে যে সকল স্থানে কন্দমূল মৃত্তিকার নীচে জন্মিয়া থাকে সেই সকল স্থান চিহ্নিত করিয়া রাখিতে হয়; সময়ানুসারে চিমটে দ্বারা তুষার ও মৃত্তিকা খনন করিয়া উহা বাহির করিয়া ধুনীতে দগ্ধ করিয়া ভক্ষণ করা যায়। কন্দমূল না পাইলে চামরী গাভীর জমাট দুগ্ধ সংগ্রহ পূর্বক ধুনীর উত্তাপে তরল দুগ্ধে পরিণত করিয়া পান করিয়া দেহ যাত্রা নির্বাহ করিতে হয়। ইহা ভিন্নও সরিষা বীজ সদৃশ একপ্রকার বীজ সংগ্রহ করিয়া ওই চারিটি ভক্ষণ করিলেও ক্ষুণ্নিবৃত্তি হয়। এই প্রকার বলিয়া ভক্তটির প্রতি স্নেহবশত কতকগুলি আসন ও মুদ্রা প্রদর্শন করিয়াছিলেন। শ্রীমহারাজজী বেশ কয়েকবার মানস সরোবর কৈলাস ভ্রমণ করিয়াছিলেন। একবার কয়েক জন সন্ত সমভিৰাহারে কৈলাস তীর্থে গমনকালে পথে তিনি ও সঙ্গী সন্তগণ ২৬-৩০ জন তিব্বতী দস্যুগণ দ্বারা পরিবেষ্টিত হইয়াছিলেন। দস্যুগণ অশ্বারোহী ও প্রত্যেকের হস্তে বন্দুক ও কাটি বন্ধে তলোয়ার

৫১

পৃষ্ঠা ৫২

ছিল। সঙ্গী সন্তগণ ভীত হইলে শ্রীমহারাজজী সশস্ত্র দস্যুগণের সম্মুখীন হইয়া বলিলেন—"কাশী-সারনাথ-লামা" কারণ শ্রীমহারাজজী তিব্বতী ভাষায় অনভিজ্ঞ ও দস্যুগণও হিন্দী ভাষায় অনভিজ্ঞ। দলপতি "সারনাথ লামা" শব্দটি হৃদয়ঙ্গম করিয়া অশ্বপৃষ্ঠ হইতে অবতরণ পূর্বক নতজানু হইলে শ্রীমহারাজজী তাঁহার জটামধ্য হইতে একখণ্ড মিস্ত্রী প্রসাদ তাহার হস্তে প্রদান করিলেন। দলপতি পূর্বে কখনও মিশ্রী দর্শন ও আস্বাদন করে নাই; সুতরাং দলপতি আকার ইঙ্গিতে বস্তুটি কি জিজ্ঞাসা করিলে শ্রীমহারাজজী আকার ইঙ্গিত দ্বারা বলিলেন ইহা খাইতে হয়। দলপতি তাহার জিহ্বা দ্বারা মিশ্রী লেহন করিয়া সুমিষ্ট আস্বাদে আশ্চর্যান্বিত হইল। সঙ্গীরাও উহা লেহন করিয়া আনন্দে নৃত্য করিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পরে তাহারা সকলে শ্রীমহারাজজী ও সঙ্গী সন্ত-গণকে অভিবাদন করিয়া প্রস্থান করিল।

শ্রীমহারাজজী কোন কোন স্থানে গিয়াছিলেন তাহার সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া সম্ভবপর নহে। তবে তাঁহার কথাবার্তায় ইহাই অনুমিত হয় যে তিনি একাকি পদব্রজে বহু স্থান পরিভ্রমণ করিয়াছিলেন এবং অনেক স্থানে তিনি কখনও একজন সন্ত কখনও বা সন্ত জমাৎ লইয়া ভ্রমণ করিয়াছিলেন। যে সকল স্থানের কথা জানা গিয়াছে সেই সকল স্থানের বিষয়ে উল্লিখিত হইতেছে।

॥ উত্তরাখণ্ডে তীর্থ ভ্রমণ ॥

উজ্জয়িনী কুম্ভস্নান সমাপন হইলে শ্রীমহারাজজী হরিদ্বার মার্গ অবলম্বন পূর্বক উত্তরাখণ্ডের তীর্থসমূহ দর্শন ও অবগাহন নিমিত্ত গমন করিলেন। প্রথমে হরিদ্বারে আসিয়া ব্রহ্মকুণ্ডে স্নান করিয়া পরে ঋষিকেশ, লক্ষ্মণঝুলা, দেবপ্রয়াগ হইয়া যমুনোত্রী পৌঁছাইলেন; এই স্থানে শীতল ও উষ্ণ মিশ্রিত প্রস্রবণ বারিতে স্নান করিয়া এক রাত্রি যাপন করিলেন। পরদিবস গঙ্গোত্রী অভিমুখে যাত্রা করিলেন। উত্তরকাশীতে আসিয়া পুনরায় ভটবারী, ভৈরো ঘাটি হইয়া গঙ্গোত্রীতে স্নান সমাপন করিয়া তথায় এক রাত্রি বাস করিলেন। পরদিবস কেদারনাথ অভিমুখে যাত্রা করিলেন। বুড়ো কেদার, পবালীদরা হইয়া ত্রিযুগীনারায়ণ, গৌরীকুণ্ড দর্শন করিয়া কেদারনাথে পৌছাইলেন। কেদারনাথে এক রাত্রি অবস্থান করিয়া পরদিবস কেদার গঙ্গায় স্নান করিলেন। তথ্য হইতে যোশীমঠ হইয়া বদ্রীনারায়ণ আগমন করিয়া তপ্তকুণ্ডে স্নান সমাপন পূর্বক বসুধারায় আসিয়া স্নান করিলেন। কয়েক বৎসর এইভাবে হিমালয়ের তীর্থসমূহ পরিভ্রমণ করিয়া পুনরায় বেদান্তীবাগে পূর্বের মত অবস্থান করিতে লাগিলেন। এই সকল তীর্থ

৫২

Comments

Popular posts from this blog

অনন্ত শ্রীবিভূষিত আচার্যপাদ শ্রীশ্রী স্বামী বাসুদেব দাসজী ত্যাগী মহারাজ প্রসঙ্গ (পর্ব - 4)

অনন্ত শ্রীবিভূষিত আচার্যপাদ শ্রীশ্রী স্বামী বাসুদেব দাসজী ত্যাগী মহারাজ প্রসঙ্গ (পর্ব - ১)

প্রাক কথন - অনন্ত শ্রীবিভূষিত আচার্যপাদ শ্রীশ্রী স্বামী বাসুদেব দাসজী ত্যাগী মহারাজ প্রসঙ্গ (পর্ব - 3)